ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিমানবন্দরে যাত্রীর পায়ুপথে ১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার Logo বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে এএসআইসহ আটক ৪ Logo পোশাক নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ, ঢাবির শিক্ষককে পাঠদান থেকে অব্যাহতি Logo সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, পাঁচ মাস পর নারীর মৃত্যু Logo স্বপ্ন থেকে বড় পর্দায়: বুয়েট, চুয়েট, ঢাবি ও চবির শিক্ষার্থীদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ আসছে দুর্গাপূজায় Logo সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী Logo যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি, মিলবে টানা পাঁচ দিন Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী Logo গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে সইয়ের দাবি নাহিদ ইসলামের

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, পাঁচ মাস পর নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের প্রায় পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত বিথী আক্তার (২৫) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বিথী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন।

অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর বিথীর আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিথীকে সুস্থ করতে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। এমনকি নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটেছি। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শরীফ ইসলাম বলেন, বিথী ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স হিসেবে পড়াশোনা শেষ করলেও কোথাও চাকরি করতেন না। তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হয়েছে।

মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বা অভিযোগ করা হবে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটেছে। তাই বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ড বলেন, বিথীর ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘এছাড়া একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিথীর পেটে গজ দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৫ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মানস কৃষ্ণ কুণ্ড বলেন, বৃহস্পতিবার বিথীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও সাত দিন সময় চেয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১০ বার পড়া হয়েছে

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ, পাঁচ মাস পর নারীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের প্রায় পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত বিথী আক্তার (২৫) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বিথী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন।

অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর বিথীর আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিথীকে সুস্থ করতে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। এমনকি নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটেছি। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শরীফ ইসলাম বলেন, বিথী ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স হিসেবে পড়াশোনা শেষ করলেও কোথাও চাকরি করতেন না। তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হয়েছে।

মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বা অভিযোগ করা হবে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটেছে। তাই বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ড বলেন, বিথীর ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘এছাড়া একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিথীর পেটে গজ দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৫ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মানস কৃষ্ণ কুণ্ড বলেন, বৃহস্পতিবার বিথীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও সাত দিন সময় চেয়েছেন।