ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo দূষণের দায়ে ভারত-চিন-আমেরিকার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে নেপাল Logo কয়লা পরিবহন সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানির গড্ডা কেন্দ্র Logo মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা বৃদ্ধির’ সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের Logo টনসিলাইটিস: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও কখন প্রয়োজন অপারেশন Logo বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি আনুষ্ঠানিক নয়: মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র Logo ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতির পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আহসান লাবিব Logo পছন্দের ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার: মাহ্দী আমিন Logo দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

দূষণের দায়ে ভারত-চিন-আমেরিকার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত নেপাল এবার জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের দায়ে বিশ্বের তিন বৃহৎ দূষণকারী দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাঠমান্ডু প্রশাসন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘কান্তিপুর টিভি’-কে জানিয়েছেন, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় তাই এই তিন দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে নেপাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সাহায্য নয়, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাইছি। সেই অনুযায়ী আমরা কূটনৈতিক পদক্ষেপ করছি।” তিনি আরও বলেন, এটি দয়াদাক্ষিণ্যের বিষয় নয়; বরং একটি নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

গত ২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, বিধ্বস্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশেষ তহবিল থেকেও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে কাঠমান্ডু।

তবে নেপাল স্পষ্ট করেছে, তারা কেবল মানবিক সহায়তা বা অনুদান চায় না। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চায় দেশটি।

বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘বলেন’ নামে বেশি পরিচিত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম সাধারণ পরিষদে নেপালের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখতে পারেন।

প্রাথমিকভাবে সেখানে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনালের। তবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিকে আরও জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য মূলত ধনী ও উচ্চ দূষণকারী দেশগুলোর দায়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর যে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল এখন নেপালের মতো জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে বহন করতে হচ্ছে।

“যারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে,”— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮৫৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ এবং উচ্চ দূষণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্নটি এবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

দূষণের দায়ে ভারত-চিন-আমেরিকার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে নেপাল

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত নেপাল এবার জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের দায়ে বিশ্বের তিন বৃহৎ দূষণকারী দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাঠমান্ডু প্রশাসন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘কান্তিপুর টিভি’-কে জানিয়েছেন, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় তাই এই তিন দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে নেপাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সাহায্য নয়, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাইছি। সেই অনুযায়ী আমরা কূটনৈতিক পদক্ষেপ করছি।” তিনি আরও বলেন, এটি দয়াদাক্ষিণ্যের বিষয় নয়; বরং একটি নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

গত ২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, বিধ্বস্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশেষ তহবিল থেকেও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে কাঠমান্ডু।

তবে নেপাল স্পষ্ট করেছে, তারা কেবল মানবিক সহায়তা বা অনুদান চায় না। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চায় দেশটি।

বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘বলেন’ নামে বেশি পরিচিত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম সাধারণ পরিষদে নেপালের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখতে পারেন।

প্রাথমিকভাবে সেখানে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনালের। তবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিকে আরও জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে নেপালের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য মূলত ধনী ও উচ্চ দূষণকারী দেশগুলোর দায়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর যে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলোর বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল এখন নেপালের মতো জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে বহন করতে হচ্ছে।

“যারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে,”— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

২৬ আগস্টের হড়পা বানের পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮৫৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ এবং উচ্চ দূষণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্নটি এবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।