দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি এই নামগুলো প্রকাশ করেন। এর আগে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সংসদে এ ধরনের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন এবং বিরোধী দলকে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সদস্যরা হলেন—জামায়াতে ইসলামীর এমপি মো. সাইফুল আলম (ঢাকা-১২), মো. নুরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), মো. আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং খেলাফত মজলিসের এমপি মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫)।
সংসদে বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচটি নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করা হলো।
এ সময় ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই কার্যক্রম সংসদ ভবন এলাকাতেও প্রয়োগ করা উচিত, যাতে লোড ম্যানেজমেন্টে সমতা বজায় থাকে।
তিনি বলেন, “ঢাকার অন্য এলাকায় যদি এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়, সংসদ এলাকাও তার বাইরে থাকা উচিত নয়। এতে জনগণ বুঝতে পারবে, একটি সমান ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”
তবে স্পিকার এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সংসদে লোডশেডিং হলে অধিবেশন পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। জবাবে শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন, তিনি অধিবেশন নয়, সংসদ কমপ্লেক্স এলাকায় লোডশেডিংয়ের কথা বলেছেন।
এর আগে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সংসদে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি সংকটের যৌক্তিক সমাধান খুঁজতে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করবেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষ থেকে পাঁচজন করে সদস্য থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচটি নাম পেলে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব। তাদের সুপারিশ বাস্তবসম্মত হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সদস্যরা হলেন—মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং এমপিরা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২) ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমদ আপু (শরীয়তপুর-৩)।