ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে উত্তেজনার জেরে রাজধানীর একটি থানার ভেতরে ছাত্রদল (জেসিডি) কর্মী ও ডাকসু প্রতিনিধিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় দুই ডাকসু নেতাকে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেসিডি কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে থানায় যান। তাদের অভিযোগ, তিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত এবং ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট করেছেন। এর আগে সংগঠনটি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
একই সময় আবদুল্লাহ আল মাহমুদও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এ বি জুবায়ের ও ফাতিমা তাসনিম জুমা।
থানার ভেতরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ জন জেসিডি কর্মী মুসাদ্দিক ও জুবায়েরের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আলাদাভাবে মারধর করেন।
তবে জেসিডি নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ডাকসুর নেতা মুসাদ্দিকই প্রথমে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটান। তাদের দাবি, তিনি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক যুগ্ম সম্পাদককে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেসিডির সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট দুই ডাকসু নেতাকে থানার ভেতরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এ সময় একদল কর্মী প্রায় ২০ মিনিট ধরে থানার ভেতরে স্লোগান দিতে থাকে এবং ডাকসু নেতাদের তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়। পরে সিনিয়র নেতারা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন, যদিও তারা কিছু সময় থানার গেটের সামনে অবস্থান করেন।
সন্ধ্যার পর রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম রাত প্রায় ৯টার দিকে এ বি জুবায়ের ও ফাতিমা তাসনিম জুমাকে নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানার জামে মসজিদে পৌঁছে দেন।