ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

কয়লা পরিবহন সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানির গড্ডা কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

রেলপথে কয়লা পরিবহনে সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র। রেলপথে অতিরিক্ত চাপ ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন বিধিনিষেধের কারণে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে সমন্বয় করে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে সরবরাহ কমিয়ে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে আদানি পাওয়ার।

বুধবার কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার জানায়, রেলপথে তীব্র যানজট এবং পরিবহন নেটওয়ার্কে একাধিক বিধিনিষেধের কারণে গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা বহনকারী রেকের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে সন্ধ্যায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আদানি পাওয়ার আরও বলেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারতীয় রেলের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গড্ডা কেন্দ্রে স্বাভাবিক হারে কয়লা সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা যায়।

শুধু আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র নয়, অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কম কয়লা মজুতের সমস্যায় পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কয়লা সরবরাহের সংকটকে শিল্পব্যাপী সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর প্রভাব বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপরও পড়েছে। পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বর্তমানে বন্ধ বা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। ফলে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এতে কয়লা পরিবহনের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে আদানি পাওয়ার। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

চুক্তি অনুযায়ী গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে বুধবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এর মধ্যেই আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়লা পরিবহন সংকটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫৬৮ বার পড়া হয়েছে

কয়লা পরিবহন সংকটে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানির গড্ডা কেন্দ্র

আপডেট সময় ০৯:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলপথে কয়লা পরিবহনে সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র। রেলপথে অতিরিক্ত চাপ ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন বিধিনিষেধের কারণে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে সমন্বয় করে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে সরবরাহ কমিয়ে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে আদানি পাওয়ার।

বুধবার কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার জানায়, রেলপথে তীব্র যানজট এবং পরিবহন নেটওয়ার্কে একাধিক বিধিনিষেধের কারণে গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা বহনকারী রেকের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে সন্ধ্যায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আদানি পাওয়ার আরও বলেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারতীয় রেলের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গড্ডা কেন্দ্রে স্বাভাবিক হারে কয়লা সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা যায়।

শুধু আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র নয়, অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কম কয়লা মজুতের সমস্যায় পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কয়লা সরবরাহের সংকটকে শিল্পব্যাপী সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর প্রভাব বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপরও পড়েছে। পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বর্তমানে বন্ধ বা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। ফলে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এতে কয়লা পরিবহনের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে আদানি পাওয়ার। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

চুক্তি অনুযায়ী গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে বুধবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এর মধ্যেই আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়লা পরিবহন সংকটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো।