সংবাদ শিরোনাম ::
রামেক হাসপাতালে লাশবাহী গাড়ির সিন্ডিকেট, জিম্মি রোগীর স্বজনরা
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হলেও দীর্ঘদিন ধরে লাশবাহী গাড়ির সিন্ডিকেট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে লাশবাহী গাড়ি। এতে শিক্ষার্থী ও হাসপাতাল কর্মচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, এসব গাড়ির কারণে রাস্তা পরিষ্কার করতেও বাধা দেওয়া হয়, প্রতিবাদ করলে মারমুখী আচরণ করা হয়। নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় নোংরা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং নেশাগ্রস্তদের ভয়ে তারা কিছু বলতে পারছেন না।
রামেকের চিকিৎসকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডা. আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা দখল ও নোংরা হয়ে পড়া লজ্জাজনক। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগী মারা গেলে সিন্ডিকেটের লোকজন বাইরে থেকে কোনো লাশবাহী গাড়ি ঢুকতে দেয় না। বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ৮–১০ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। এতে শোকের মুহূর্তে তারা চরম আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই সিন্ডিকেট চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় রামেক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রামেক হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম কে এই বিষয়ে জানতে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ট্যাগস :














