আপিল শুনানি শেষ: ৪২২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ইসি’র দাবি ‘পক্ষপাতহীন’ বিচার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা প্রার্থীদের শুনানি শেষ হয়েছে। এই শুনানির শেষ দিনে দিনভর নানা নাটকীয়তা ছিল নির্বাচন কমিশনে। একইদিনে কয়েকটি দাবিতে দিনভর কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শুনানি চলার মধ্যেই কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি’র কিছু কর্মকর্তার পক্ষপাতের অভিযোগ করে বিএনপি। রাতে শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন দাবি করেন, কমিশন নিরপেক্ষভাবে আপিল নিষ্পত্তি করেছে। কারও প্রতি পক্ষপাত করা হয়নি। শেষ দিন সকালে এক প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণার পর বিকালে আবার অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আপিলের শুনানিতে তাকে বৈধতা দেয়া হলেও মৌখিকভাবে টাকা পরিশোধ করতে বলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ৯ দিনে ৬৪৫টি আপিলের শুনানি হয়। শেষ দিনে ৬৩টি আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে ২৩টি মঞ্জুর হয়। সর্বমোট মঞ্জুর হয়েছে ৪২২টি। বাকি আপিলগুলো নামঞ্জুর ও কিছু স্থগিত করা হয়।
‘নিষিদ্ধ দল, ব্যক্তি নয়’-ইসি: সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে, তবে কোনো ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেনি- এমন মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। আপিল শুনানির শেষ দিনে আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি এ কথা বলেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী। আপিলে দাবি করা হয়, নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্য নন। শুনানিতে লিয়াকত আলীর আইনজীবী এ যুক্তি তুলে ধরলে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করা হয়নি।
মিন্টুর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন নামঞ্জুর, কায়কোবাদের বাতিলের আবেদন স্থগিত:
রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর ফেনী ৩ আসনের বিএনপি মনোনীত মিন্টুর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি’র প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আপিল আবেদন জমা পড়ে ইসিতে। তবে মিন্টু ২৯শে ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন দাখিল এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেয়ায় কমিশন আপিলটি নামঞ্জুর করে।
কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে দীর্ঘ শুনানির পর ইসি’র আপিল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত দেয়। একই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইউসুফ সোহেল রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আবেদন করেছিলেন। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের নাগরিক হওয়ার অভিযোগ করা হয় ইসিতে। কায়কোবাদের পক্ষে আইনজীবী এবং আপিলকারীর পক্ষেও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুরো কমিশন এ সিদ্ধান্ত জানায়।
আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করেনি ইসি-সিইসি:
টানা নয়দিনের শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আমরা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও ছেড়ে দিয়েছি। আমরা চাই যে সবাই অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। সিইসি বলেন, আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টা আমরা কীভাবে ছেড়ে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। বিকজ উই ওয়ান্ট দি ইলেকশন টু বি পার্টিসিপেটেড। আমরা চাই যে সবার অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু হবে না। তিনি বলেন, আই ক্যান এশিউর, আমার তরফ থেকে এবং আমার টিমের তরফ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো জাজমেন্ট আমরা দেইনি। আমরা অনেক ডেলিবারেশন করে যেটা মনে করেছি আল্লাহতায়ালার তরফ থেকে আন্ডারস্ট্যান্ডিং। একই সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা ঋণখেলাপি যাদেরকে ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদেরকে পারমিট করেছে বিধায়।














